যে কন্ঠে বেদমন্ত্র উচ্চারিত হয়, সে কন্ঠে কটুবাক্য কি করে উচ্চারিত হতে পারে ⁉️



যে কন্ঠে বেদমন্ত্র উচ্চারিত হয়, 
সে কন্ঠে কটুবাক্য কি করে উচ্চারিত হতে পারে ⁉️

সনাতন ধর্ম মনুষ্যকে অধম থেকে উত্তম হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে। সর্বদা শুভ চিন্তা, শুভ কর্ম ও সকলের মঙ্গল কামনার আহ্বান জানায়। মুখনিঃসৃত বাক্য সর্বদা শুভ ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে যেন হয় সে উত্তম চিন্তাই সনাতন ধর্মশাস্ত্রের উপদেশ। 

"আ শাসতে প্রতি হর্যন্ত্যুক্থেমা হরী বহতস্তা নো অচ্ছ" - ঋগ্বেদ ১/১৬৫/৪

অর্থাৎ , যেভাবে নিজের সুখের কামনা করা হয় , সেভাবে সকলের সুখের জন্য তাদের দুঃখ দূর করা উচিৎ।

এ শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত এই সদাচরণ অনুসরণ করা আবশ্যক। কারণ, মনুষ্যের প্রতিটি পদক্ষেপ কর্মফলের ধারণার বন্ধনে আবদ্ধ। উত্তম চিন্তা থেকে উত্তম বাক্য আসে, উত্তম বাক্য থেকেই আসে উত্তম কর্ম। সেজন্য, মানবজাতির কল্যাণ গ্রন্থ বেদে বলা হয়েছে, 

"মা বো বচাংসি পরিচক্ষ্যাণি বোচম্" - সামবেদ ৬১০ 

অর্থাৎ, আমি যেন কটূ বচন উচ্চারণ না করি।

তবে দূর্ভাগ্যবশত এই সত্যকে নিত্যদিনের আচরণে স্মরণ করার পরিবর্তে বিভিন্ন অযৌক্তিক ও নিন্দনীয় কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাচ্ছে 
সনাতনীদের অজ্ঞানতা, অবিবেকী আচরণ এমন হাস্যকর মিমসকে যৌক্তিক ভিত্তি দান করছে। 

প্রতিটি মতাদর্শের কিছু আদর্শ ও নিয়মানুবর্তিতা রয়েছে। যা অনুসারীদের আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সে আদর্শের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। এই সংযম এর চিন্তা সম্মানের বিষয়। 

সংযম সনাতন ধর্মের আদর্শের অন্যতম উপাদান। ধর্মের লক্ষণে সংযম অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তবে সে সংযম শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে নয় বরং আমৃত্যু এই গুণ ধারণ করে চলতে হবে। এটাই অনিবার্য সত্য। সনাতন ধর্মে এরূপ গালাগালি কিংবা বিদ্বেষপ্রসূত আচরণ এর কোনো স্থান নেই। বেদের বিধান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। নচেৎ, নিজ জীবন ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে গণ্য হবে। কটুবাক্য, অশ্লীল বিষয়ে সংযম করা আবশ্যক। 

সনাতনী ভ্রাতা-ভগিনীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ এমন হাস্যকর কিন্তু অহেতুক মিমসকে এড়িয়ে চলুন। আপনি কোনো এজেন্ট নন যে এসবের জন্য আপনাকে নিয়োগ করা হয়েছে। হ্যাঁ! এটাকে জোকস হিসেবে নেওয়ার কথা বলতে পারেন। তবে আমরা এই দাবির সাথে একমত নাহ। ধর্মের লক্ষণ ত্যাগ করে অশ্লীল মন্তব্য কিংবা হেয়সূচক মিমস এর অংশীদার হওয়া কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য নাহ। 

পরিশেষে, ধর্ম কোনো অপশনাল বিষয় নয় বরং হৃদয়ে ধারণ করার বিষয়। এই বিধান মনুষ্যকে পশু হতে আলাদা করে, ধার্মিককে অধার্মিক হতে আলাদা করে। তাই, নিজের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ধর্মাচরণকে প্রাধান্য দিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, সত্যকে কি কখনো মজা করেও অস্বীকার করা যায় ⁉️

বিঃদ্রঃ এই আর্টিকেল এর উদ্দেশ্য সনাতনীদের শাস্ত্র সচেতন করা। আমরা প্রতিটি মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
#veda

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ