নারী মর্যাদা সর্বোপরি কিন্তু কোন নারী ⁉️


নারী মর্যাদা সর্বোপরি 
কিন্তু কোন নারী ⁉️

"নারী" - এই শব্দের মধ্যে রয়েছে মর্যাদা, প্রেম ও করুণা। পৃথিবীতে নারীকে নিয়ে রচিত হয়েছে কাব্য, উপন্যাস কিংবা ধর্মশাস্ত্রে ভূষিত করা হয়েছে অজস্র সম্ভাষণে। কখনো অর্ধনারীশ্বর রুপে ঈশ্বরকে কল্পনা করা হয়েছে, কখনো জ্ঞানী স্বরুপা রুপে সম্বোধন করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, এই মনুষ্য সভ্যতায় নারীকে মাতৃরূপে ঈশ্বরের পরের স্থান দেওয়া হয়েছে। নারী সে মর্যাদা ও সম্মান প্রাপ্তির যোগ্য এই ধারণাকে লালন করে এমন উপদেশ শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু নারীমাত্রই কি এই মর্যাদায় ভূষিত হওয়ার যোগ্য ⁉️

হ্যাঁ! যোগ্যতার প্রশ্ন অবশ্যই আছে। কারণ, যোগ্যতা ব্যতীত কেউ এই পৃথিবীতে সম্মান, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হতে পারে নাহ। নারী এই মনুষ্য সভ্যতায় সম্মান, মর্যাদার অনন্য আসনে স্থান লাভ করেছে। নিশ্চিতভাবে সে সম্মান যোগ্যতার পরাকাষ্ঠায় হওয়া উচিত। যে নারী যোগ্য, সে নারী মর্যাদা ও সম্মান প্রাপ্তি আবশ্যক। মানবসভ্যতার অনন্য ইতিহাস গ্রন্থে এই বিষয় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, 

স্ত্রিয়ঃ সাধ্ব্যো মহাভাগাঃ সম্মতা লোকমাতরঃ। 
ধারয়ন্তি মহীং রাজন্নিমাং সবনকাননাম্॥ 
[মহাভারত, অনুশাসন পর্ব ৪৩/২০] 

অর্থাৎ, রাজন ! যদি স্ত্রীগণ সাধ্বী এবং পতিব্রতা হয় তো মহান সৌভাগ্যশালী হয়ে থাকে। সংসারে তাঁদের সৎকার হয় এবং তাঁদের সম্পূর্ণ জগতের মাতা মান্য করা হয়। এতটুকুই নয়, তাঁরা নিজেদের পতিব্রতার প্রভাবে বন এবং বাগিচা সহিত এই সম্পূর্ণ পৃথিবীকে ধারণ করে। 

নারীর এই মর্যাদা প্রাপ্তির সিংহাসন নারীর কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আসবে। কারণ, অধিকার এর বিপরীতে কর্তব্য রয়েছে। যেখানে একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি রাজা কিংবা রাজসভায় স্থান পায় নাহ, সেখানে জগতের শ্রেষ্ঠ সম্মান যাকে প্রদর্শন করা হয় তার গুণাগুণ ধারণ করা আবশ্যক। যে এই দায়িত্ব ও কর্তব্য লালন করে নাহ, সে নিশ্চিতভাবেই মর্যাদার আসনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে নাহ। 

অসাধ্ব্যশ্চাপি দুর্বৃত্তাঃ কুলঘ্নাঃ পাপনিশ্চয়াঃ। 
বিজ্ঞেয়া লক্ষণৈর্দুষ্টৈঃ স্বগাত্রসহজৈর্নৃপ॥ 
[মহাভারত, অনুশাসন পর্ব ৪৩/২১] 

অর্থাৎ, কিন্তু দুরাচারী অসতী স্ত্রীগণ কুলের নাশকারী হয়, তাঁদের মনে সর্বদা পাপ বসবাস করে। নরেশ্বর ! সেইসব নারীদের তাঁদের দুষ্টগুণ সমূহ দ্বারাই জানা যায়। 

সেজন্য, হে অমৃতের সন্তানগণ! নারী অবশ্যই পূজ্য ও মর্যাদার আসনে আসীন। কিন্তু সে আসন নারীকে লাভ করতে হবে। ফলশ্রুতিতে, নারীর সে গুণাগুণ ধারণের জন্য জাতি সর্বদা চিরনমস্য হয়ে থাকবে। ঠিক যেমন মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের মাতা কৌশল্যা ও স্ত্রী সীতার প্রতি জগত চিরনমস্য থাকে।
#veda

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ