উগ্রবাদী ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীর মূর্খতারপূর্ণ দাবির ভিত্তি কি ⁉️


উগ্রবাদী ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীর মূর্খতারপূর্ণ দাবির ভিত্তি কি ⁉️

"ইতিহাস কখনো কখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকে, কিন্তু তা মুছে যায় না। অযোধ্যার রামজন্মভূমি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে যে বিতর্কের ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন এবং ঐতিহাসিক দলিল সেই কুয়াশা দূর করতে আজ বদ্ধপরিকর। দ্বাদশ শতাব্দীর শিলালিপি থেকে শুরু করে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণলিপি। প্রতিটি প্রমাণ আজ একই সত্যের দিকে আঙুল নির্দেশ করছে। যখন তথ্য ও প্রমাণ কথা বলে, তখন সংশয়ের অবকাশ ক্ষীণ হয়ে আসে। এই প্রবন্ধে আমরা দেখব কীভাবে প্রত্নতত্ত্ব এবং ইতিহাসের অকাট্য দলিলসমূহ রামজন্মভূমি মন্দিরের অস্তিত্বকে এক অনস্বীকার্য বাস্তবতায় রূপান্তর করেছে।

​রাম মন্দিরের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণসমূহ
​১. প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ (বিষ্ণু হরি লিপি)
​আবিষ্কার: বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর খননকার্যের সময় অধ্যাপক বি.বি. লাল ও কে.কে. মুহাম্মদ দ্বাদশ শতাব্দীর একটি শিলালিপি খুঁজে পান, যা 'বিষ্ণু হরি লিপি' নামে পরিচিত।
​মূল বিষয়বস্তু: এই লিপির ১৯তম লাইনে উল্লেখ আছে যে, এই মন্দিরটি সেই রাজার উদ্দেশ্যে নির্মিত যিনি দশ মাথা বিশিষ্ট রাক্ষসকে (রাবণ) বধ করেছিলেন। এটি গহড়বাল বংশের রাজা গোবিন্দচন্দ্রের সামন্ত রাজা অনয়চন্দ্র খোদাই করেছিলেন।
​বিতর্ক নিরসন: সমালোচকরা একে লখনউ মিউজিয়াম থেকে চুরি করা 'ত্রেতা কে ঠাকুর' লিপি দাবি করলেও, মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এবং কিশোর কুনাল প্রমাণ করেছেন যে দুটি লিপি সম্পূর্ণ আলাদা।
​২. স্থাপত্যশৈলী ও ধ্বংসাবশেষ
​মসজিদ ভেঙে পড়ার পর সেখান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন স্তম্ভ ও ভগ্ন অংশে হিন্দু ও জৈন স্থাপত্যের স্পষ্ট নিদর্শন পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে সেখানে পূর্বে একটি মন্দির বিদ্যমান ছিল।

​৩. ধর্মীয় ও সাহিত্যিক প্রমাণ (জনমসাখী)
​শিখ ধর্মগুরু গুরু নানকের জীবনীগ্রন্থ 'জনমসাখী' অনুযায়ী, ১৫০০ সালে তিনি অযোধ্যায় সরযূ নদীতে স্নান করে রামজন্মভূমি মন্দির দর্শন করেছিলেন।

​৪. বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ: 

​উইলিয়াম ফিঞ্চ (১৫৮৫-১৬১৯): তার 'আর্লি ট্রাভেলস ইন ইন্ডিয়া' গ্রন্থে অযোধ্যায় ভগ্ন রাম মন্দিরের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
​টিফেনথেলার (Tieffenthaler): তিনিও তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে রাম মন্দির ভেঙেই বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।

কোনো ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করতে হলে যে পরিমাণ পাণ্ডিত্য এবং তথ্যনিষ্ঠা প্রয়োজন, ফারাবীর মতো সমালোচকদের বক্তব্যে তার লেশমাত্র নেই। যখন দ্বাদশ শতাব্দীর 'বিষ্ণু হরি লিপি'র মতো অকাট্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, 'জনমসাখী'র মতো প্রাচীন ধর্মীয় দলিল এবং উইলিয়াম ফিঞ্চ বা টিফেনথেলারের মতো বিদেশি পর্যটকদের নিরপেক্ষ বর্ণনা রামমন্দিরের অস্তিত্বকে বারবার সত্যায়িত করছে, তখন তাকে অস্বীকার করা কেবল মূর্খতা নয় বরং এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। তথাকথিত প্রগতিশীলতার মোড়কে ইতিহাসের এমন নির্লজ্জ অপলাপ প্রমাণ করে যে, তাদের উদ্দেশ্য সত্য অনুসন্ধান নয়, বরং রাজনৈতিক বা আদর্শিক হীনম্মন্যতা থেকে এক অবিনশ্বর সত্যকে আড়াল করা। কিন্তু খননকার্যে প্রাপ্ত প্রতিটি শিলাখণ্ড এবং প্রাচীন স্তম্ভ আজ চিৎকার করে সেই প্রাচীন মন্দিরের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সুতরাং, যারা তথ্যের পাহাড়কে উপেক্ষা করে মিথ্যার বেসাতি করছেন, তাদের এই দাবি ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হবে। সত্যের দহন ক্ষমতা চিরকালই মিথ্যাচারের ধোঁয়াশাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, আর অযোধ্যার ইতিহাসও তার ব্যতিক্রম নয়।

 অযোধ্যার রামজন্মভূমি কোনো বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়, বরং এটি ছিল এক সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের অংশ। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এবং গবেষক সীতারাম গোয়েল (Sita Ram Goel) তাঁর কালজয়ী গবেষণামূলক গ্রন্থ "Hindu Temples: What Happened to Them"-এ সপ্রমাণ উল্লেখ করেছেন যে, ভারতে ইসলামিক আগ্রাসনের সময় প্রায় ২,০০০ (দুই হাজার) বড় মন্দির ভেঙে সেগুলোর ওপর মসজিদ বা অন্যান্য ইসলামিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি কেবল কোনো মৌখিক দাবি নয়, বরং প্রতিটি স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থাপত্যিক নিদর্শনের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
​এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক রেফারেন্সসমূহ হলো:
​কুতুব মিনার কমপ্লেক্স (কুয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ): দিল্লির এই মসজিদের প্রবেশপথেই শিলালিপিতে খোদাই করা আছে যে, এটি ২৭টি বিশাল হিন্দু ও জৈন মন্দির ভেঙে তার ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
​কাশী ও মথুরা: মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমসাময়িক দাপ্তরিক ইতিহাস গ্রন্থ 'মাসির-ই-আলমগিরি' (Maasir-i-Alamgiri)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সম্রাটের আদেশে কাশি বিশ্বনাথ মন্দির এবং মথুরার কেশবদেব মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল।
​আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI): ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের (যেমন গুজরাটের সোমনাথ, মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা বা বাংলার আদিনা মসজিদ) প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর ভিত্তি বা স্তম্ভে প্রাচীন মন্দিরের খোদাই করা মূর্তি ও নকশা আজও বিদ্যমান।  

কোনো ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করতে হলে যে পরিমাণ পাণ্ডিত্য এবং তথ্যনিষ্ঠা প্রয়োজন, ফারাবীর মতো মূর্খদের বক্তব্যে তার লেশমাত্র নেই। অযোধ্যার রামজন্মভূমি মূলত মধ্যযুগীয় সেই আগ্রাসনের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, যার ব্যাপ্তি ছিল সুদূরপ্রসারী। ঐতিহাসিক সীতারাম গোয়েল তাঁর গবেষণায় সপ্রমাণ দেখিয়েছেন যে, ভারতজুড়ে অজস্র মন্দির ধ্বংস করে সেগুলোর উপর মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। দিল্লির কুতুব মিনার বা কুয়াত-উল-ইসলাম মসজিদের শিলালিপি আজও সাক্ষ্য দেয় যে তা ২৭টি মন্দির ভেঙে নির্মিত।

​যখন দ্বাদশ শতাব্দীর 'বিষ্ণু হরি লিপি', 'জনমসাখী'র ধর্মীয় দলিল এবং উইলিয়াম ফিঞ্চের মতো বিদেশি পর্যটকদের নিরপেক্ষ বর্ণনা রামমন্দিরের অস্তিত্বকে বারবার সত্যায়িত করছে, তখন তাকে অস্বীকার করা কেবল মূর্খতা নয় বরং এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা। তথাকথিত প্রগতিশীলতার মোড়কে ইতিহাসের এমন নির্লজ্জ অপলাপ প্রমাণ করে যে, তাদের উদ্দেশ্য সত্য অনুসন্ধান নয়, বরং রাজনৈতিক বা আদর্শিক হীনম্মন্যতা থেকে এক অবিনশ্বর সত্যকে আড়াল করা। কিন্তু খননকার্যে প্রাপ্ত প্রতিটি শিলাখণ্ড এবং প্রাচীন স্তম্ভ আজ চিৎকার করে সেই প্রাচীন মন্দিরের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সুতরাং, যারা তথ্যের পাহাড়কে উপেক্ষা করে মিথ্যার বেসাতি করছেন, তাদের এই দাবি ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই নিক্ষিপ্ত হবে। সত্যের দহন ক্ষমতা চিরকালই মিথ্যাচারের ধোঁয়াশাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, আর অযোধ্যার ইতিহাসও তার ব্যতিক্রম নয়।

#veda

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ