"মিশনারীদের এক ঐতিহাসিক ব্যর্থ ধর্মান্তর প্রচেষ্টা"
"ধর্মান্তর" - প্রত্যহ এই শব্দের সঙ্গে সুপরিচিত নয় এমন ব্যক্তির সন্ধান বোধহয় আন্দামান এর নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ ব্যতীত খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। প্রলোভন, কৌশল কিংবা ব্রেনওয়াশ এর মাধ্যমে অপর বিশ্বাসের ব্যক্তিকে নিজ মতাদর্শিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া সহজ অর্থে ধর্মান্তর। কিন্তু এই বিষয়কে খুব সাধারণ ভাবে চিন্তা করলে কখনো এই শব্দের মধ্যে নিহিত উদ্দেশ্য কখনো উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কারণ, এই প্রজেক্ট কোনো স্বাধীন ফিলোসফির চয়ন সম্পর্কে নয় বরং সম্প্রদায়ের শক্তিশালী কিংবা দূর্বল করে দেওয়া এই ধর্মান্তর এর মধ্যে নিহিত।
তবে রিলিজিয়ন সমূহের মধ্যে এই ধর্মান্তর করার চেষ্টা আপ্রাণ হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে তা কখনো ভিত্তি লাভ করেনি। কারণ, আর্যাবর্তের প্রাচীন শাস্ত্র এতই সমৃদ্ধ যে, কোনো বহিঃশক্তি এই উচ্চতায় আসতে পারেনি কখনো। সেজন্য, এই মৃত্তিকায় ধর্মান্তর অর্থে কোনো বিষয়ের বাস্তবতা নেই। সুপ্রাচীন সময় থেকে আজ অবধিও ধর্মকে এক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব তা মূলত দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ে থাকে।
কিন্তু আর্যাবর্ত ধর্মান্তরকে অবান্তর হিসেবে সম্বোধন করলেও সেমিটিক রিলিজিয়ন সমূহের মধ্যে এই ধর্মান্তরিত করার প্রবণতা ইহাদের যাত্রার শুরু থেকে বিদ্যমান। ফলস্বরূপ, সেমিটিক রিলিজিয়ন সমূহ সর্বদা অন্যত্র পৌঁছে সেখানকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা করে থাকে। সে দৃষ্টান্ত আমরা আমাদের এই উপমহাদেশে লক্ষ্য করি। তুর্কি, মোঘল কিংবা বৃটিশ শাসনামলে এই ধর্মান্তর এর চেষ্টা অব্যাহত ছিল। ধীরে ধীরে এই চেষ্টা অনেকাংশে সফলও হয়, তবে শাস্ত্রীয় সমৃদ্ধি ও অতুলনীয় জ্ঞান ভান্ডারের এই মহাসমুদ্রে কেউই বিচারিক ক্ষেত্রে স্থায়ী হয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি।
তবে এই প্রচেষ্টার সবথেকে অর্গানাইজড মুভমেন্ট লক্ষ্য করা যায় এই মহাদেশের মিশনারী কার্যক্রমে। বৃটিশ উপনিবেশ কিংবা ডাচ-পর্তুগিজ সকল উপনিবেশ সমূহে স্থানীয় বিশ্বাসকে দুমড়ে মুচড়ে নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠা করেছে। যা আমরা আফ্রিকা, নর্থ ইস্ট, ফিলিপাইন বা সাউথ আমেরিকাসহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল সমূহে লক্ষ্য করলে আমরা বুঝতে পারি। তবে এই ধর্মান্তর প্রজেক্ট কৌশলগত ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের নর্থ ইস্টের রাজ্যসমূহ অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মনিপুর কিংবা মেঘালয়ে স্থানীয় কিংবা সনাতনী ঐতিহ্য ছিল জীবনের অঙ্গ। কিন্তু সুদীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা ধর্মান্তরের ফলে মিশনারী কার্যক্রম এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নিঃশব্দে, নিরবে এই ধর্মান্তর চলেছে দশকের পর দশক। এই ধর্মান্তর খুব সুক্ষ ভাবে হয়ে থাকে, যেখানে সে জনগোষ্ঠীর লৌকিক উৎসব, ভাষাগত ঐতিহ্য এবং নাম-পরিচয় কখনো পরিবর্তন হয় নাহ। কিন্তু সুচারুভাবে পরিবর্তন হয়ে যায় ধর্মীয় বিশ্বাস। এই ধর্মান্তর প্রজেক্ট সফল করতে বিবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কখনো দরিদ্র মানুষের পাশে থাকা, কখনো রোগ সারানোর ক্যাম্পেইন চালানো, কখনো স্থানীয় বিশ্বাসের অনুরুপ কার্যক্রম করা। তবে স্থানীয় বিশ্বাসের অনুরুপ কার্যক্রম করা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, এই উপমহাদেশে সনাতনীরা রথযাত্রা, কীর্তন করে থাকে। মিশনারীদের নব্য ক্যাম্পেইনে এই বিষয় সমূহ থাকবেই এবং শাস্ত্রীয় অনুরূপতা লক্ষ্য করা যায়।
তবে এই কৌশলসমূহ নতুন নয় বরং পূর্বসূরিদের অনুকরণই বটে। সেই ব্যাখ্যা প্রদানে আমাদের ফিরে যেতে হবে বৃটিশ শাসনামলে। ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলের প্রবর্তিত শিক্ষানীতি ছিল মূলত হিন্দুদের মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের এক দীর্ঘমেয়াদি ব্লুপ্রিন্ট। প্রাচ্যের সুপ্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডার ও শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে মেকলে এমন এক ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল স্বকীয়তাহীন একটি অনুগত শ্রেণি তৈরি করা। তাঁর নিজের ভাষায়, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল এমন একদল মানুষ তৈরি করা, যারা "রক্তে ও বর্ণে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নৈতিকতা ও বুদ্ধিমত্তায় হবে ইংরেজ।" বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান বা নাম-পরিচয় পরিবর্তন না করে মানুষের চিন্তার জগত ও আনুগত্যের কাঠামোকে সুক্ষ্মভাবে বদলে দেওয়ার যে 'ধর্মান্তর প্রজেক্ট', মেকলের এই সাংস্কৃতিক হেজিমনি ছিল তারই অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে হিন্দুদের ঐতিহ্যগত শাস্ত্রীয় গভীরতাকে কুঠারাঘাত করা হয় এবং ধর্মান্তরের রাস্তা প্রশস্ত করা হয়। এই শিক্ষানীতির দর্শনে হিন্দুদের মধ্যে নিজ জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলা হয় যা আমরা তৎকালীন হিন্দু কলেজে বিবিধ বিষয়ে লক্ষ্য করি। তবে এই সংশয় সৃষ্টি করা যথেষ্ট ছিল নাহ বরং মিশনারীদের নিজস্ব মতাদর্শকে বহিরাগত এর পরিবর্তে দেশীয় সংস্কৃতির আদলে উপস্থাপন করা ছিল অন্যতম কৌশল। শাস্ত্রকে অসার উপস্থাপন করে, বিকৃত করে তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইনকালচারেশন এর চেষ্টা করা হয়।
১৭শ শতকের শুরুতে দক্ষিণ ভারতে আসা ইতালীয় জেসুইট যাজক রবের্তো দে নোবিলি অনুধাবন করেছিলেন যে, ইউরোপীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে আর্যাবর্তের শাস্ত্রীয় সমাজকে প্রভাবিত করা অসম্ভব। তাই তিনি মিশনারী বিশ্বাসকে ভারতীয় সংস্কৃতির ছাঁচে ঢেলে সাজানোর এক সুক্ষ্ম কৌশল গ্রহণ করেন, যা ইতিহাসে 'ইনকালচারেশন' নামে পরিচিত। মাদুরাইতে এসে তিনি পর্তুগিজদের মতো গোমাংস আহার ও মদ্যপানের ইউরোপীয় রীতিনীতি ত্যাগ করেন। নিজেকে উচ্চবর্ণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে তিনি গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করেন, চন্দন তিলক লাগান, কাঠের খড়ম ব্যবহার করেন এবং কঠোরভাবে নিরামিষাশী হয়ে নিজেকে একজন "রোমান ব্রাহ্মণ" হিসেবে পরিচয় দেন।
এই কৌশলকে নিরেট বাস্তব রূপ দিতে নোবিলি তামিল ও সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা করেন এবং উপনিষদ ও বেদ অধ্যয়ন করেন। তিনি স্থানীয় হিন্দুদের যজ্ঞোপবীত (পৈতে) ও শিখা (টিকি) রাখার ঐতিহ্যকে ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করে তাঁর ধর্মান্তরিত অনুসারীদের তা বজায় রাখার অনুমতি দেন। এমনকি তিনি যাজকদের জন্য চার্চের ভেতরে যজ্ঞোপবীত ধারণের ব্যবস্থা করেন, যা 'খ্রিষ্টান পৈতে' নামে পরিচিতি পায় এবং সেটিতে একটি ক্রুশ যুক্ত করা হয়। কেবল তা-ই নয়, স্থানীয়দের আকৃষ্ট করতে তিনি সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যিশুর জীবন আখ্যান নিয়ে সংস্কৃতে স্তোত্র ও কাব্য রচনা করেন। মূলত বাহ্যিক নাম, পোশাক ও লৌকিক আচার অক্ষুণ্ণ রেখে ভেতরে বিশ্বাসের জগতকে বদলে দেওয়ার এই যে সূক্ষ্ম পদ্ধতি, তা নোবিলির হাত ধরেই এই উপমহাদেশে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।
তবে এই ইনকালচারেশন এর চেষ্টা নিজেদেরই এক পর্যায়ে সেটব্যাক করে। ১৭শ শতকের শেষভাগে ফরাসি জেসুইট মিশনারীরা দক্ষিণ ভারতের পন্ডিচেরিতে আস্তানা গেড়ে স্থানীয় উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নিজেদের বিশ্বাসে দীক্ষিত করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আর্যাবর্তের সুগভীর শাস্ত্রীয় জ্ঞান ও দর্শনের দৃঢ় ভিত্তির সামনে তাদের সাধারণ পশ্চিমা প্রচার পদ্ধতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং স্থানীয় সমাজ তাদের ম্লেচ্ছ হিসেবে বর্জন করে। এই চরম ব্যর্থতা থেকে বাঁচতে তারা রবের্তো দে নোবিলির সেই ছদ্মবেশী ইনকালচারেশন বা দেশীয়করণ কৌশলটি আপন করে নেয়। সরাসরি সনাতন ধর্মকে আক্রমণ না করে, তারা এর ভেতরের মোড়কটিকেই জালিয়াতির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরিকল্পনা থেকেই ফাদার জঁ কালমেট এবং তাঁর সহযোগীরা পন্ডিচেরির নির্জন মিশনে বসে সংস্কৃতে ও ফরাসিতে একটি জাল গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম দেওয়া হয় Ezourvedam। দুই ঋষির কাল্পনিক সংলাপের আদলে রচিত এই গ্রন্থে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সনাতন দর্শনের বহুত্ববাদকে নস্যাৎ করে খ্রিষ্টীয় একেশ্বরবাদের বীজ বুনে দেওয়া হয়েছিল, যাতে স্থানীয়রা একে নিজেদেরই আদি বেদ মনে করে বিভ্রান্ত হয়।
ধর্মান্তরের এই সুচারু ও চতুর প্রজেক্টটি শেষ পর্যন্ত মিশনারীদের নিজেদের বুকেই বুমেরাং হয়ে আঘাত করে, যখন ১৭৫১ সালে এই জালিয়াতির পাণ্ডুলিপিটি ফ্রান্সে পৌঁছায়। সে সময় ইউরোপে চলছিল আলোকিত যুগ বা এনলাইটেনমেন্ট, যার প্রধান পুরুষ প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার ১৭৬১ সালে এই গ্রন্থটি হাতে পান। জেসুইটদের এই সূক্ষ্ম প্রতারণা ধরতে না পেরে ভলতেয়ার একে ভারতের এক পরম প্রাচীন ও অকৃত্রিম জ্ঞানভাণ্ডার মনে করে বসেন। তিনি চার্চের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে একে এক মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সগর্বে দাবি করেন যে, খ্রিষ্টধর্মের বহু আগেই পৃথিবীতে অত্যন্ত উন্নত ও যুক্তিভিত্তিক একেশ্বরবাদ বিদ্যমান ছিল, যার আদি ও প্রকৃত উৎস হলো আর্যাবর্ত বা ভারত। তিনি তীব্র ভাষায় ইউরোপীয় মিশনারীদের সমালোচনা করে বলেন, যে ভারতকে তারা অসভ্য বা পৌত্তলিক বলে ধর্ম প্রচার করতে যাচ্ছে, সেই ভারতের শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য খ্রিষ্টধর্মের চেয়েও প্রাচীন ও মহান।
ভলতেয়ারের মতো প্রভাবশালী দার্শনিকের এমন ব্যাখ্যার পর ইউরোপের বুদ্ধিজীবী মহলে খ্রিষ্টান মিশনারীদের কার্যক্রমের নৈতিক ভিত্তি মারাত্মক ধাক্কা খায় এবং সনাতন ধর্মকে খ্রিষ্টধর্মের চেয়ে প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ একেশ্বরবাদী উৎস হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়। কিন্তু সনাতন ধর্ম একেশ্বরবাদী হিসেবে নিজ গ্রন্থ দ্বারা স্বীকৃত ছিল। তবুও আর্যাবর্তকে অবদমিত করার জন্য পন্ডিচেরিতে যে প্রতারণার বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল, তা ইউরোপের মাটিতেই মিশনারীদের বিশ্বাসের ভিতকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করায়।
যদিও ১৯শ শতকের শুরুতে ক্লদ দেলঁসহ অন্যান্য গবেষকরা ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন যে Ezourvedam আসলে ফরাসি জেসুইটদের লেখা একটি নিখুঁত জালিয়াতি, ততক্ষণে জেসুইটদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। আধিপত্য বিস্তারের এই অতি-চালাকি শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের চিন্তাজগতেই এক ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক বিপর্যয় বা সেটব্যাক ডেকে এনেছিল, যা আর্যাবর্তের বিচারিক ও শাস্ত্রীয় শ্রেষ্ঠত্বকেই পরোক্ষভাবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই ঘটনাসমূহ বৃটিশ শাসনামলে সীমাবদ্ধ নেই বরং বর্তমানেও মিশনারী কার্যক্রম একই কৌশলে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু আমাদের অজ্ঞানতাবশত এই কূটকৌশলকে সহজে ধরতে পারি নাহ। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে অর্থ, সুযোগসুবিধা প্রদান করে ধর্মান্তরের এই কৌশল যেন মনুষ্যত্বের মূল ভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। সেজন্য, এমন কূটকৌশল অবলম্বন করে ধর্মান্তরকে সনাতন ধর্ম কখনো অনুপ্রাণিত করেনি। পরিবর্তন তো সেটাই যা নিজেকে ভুল, অপকর্ম, অধর্ম থেকে বিরত রেখে মানবতাবাদী হিসেবে গড়ে তোলে। সনাতন শাস্ত্র ও দর্শনসমূহ এই আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে চলে। জোরপূর্বক, কূটকৌশল অবলম্বন করে ধর্মান্তরিত করে সম্প্রদায় সৃষ্টি করে আধিপত্য বিস্তার ইহা কতটুকু যৌক্তিক? সনাতন শাস্ত্র আজ অবধি এত দার্শনিক, চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেছে কিন্তু কখনো ধর্মান্তরের জন্য প্রলোভিত করেনি। কখনো কূটকৌশল অবলম্বন করে গ্রামের পর গ্রাম ধর্মান্তর করার চেষ্টা করেনি বরং মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিয়েছে। সেজন্য বারংবার বিশ্ব মঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু ধর্মান্তর করার নামে এই শঠতাকে কখনো গ্রহণ করেনি। এই উদার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ ভগিনী নিবেদিতা, জর্জ হ্যারিসন, Jonas Masetti নিজেদের উপলব্ধি করেছিলেন। হ্যাঁ! আমরা ধর্মান্তরকে অনুপ্রাণিত করি নাহ, কারণ, খোলস বদলালে কোনো পরিবর্তন আসবেনা যতক্ষণ নাহ হৃদয় বদলায়। আমরা হৃদয় বদলাতে অনুপ্রাণিত করি।
Run with #veda

0 মন্তব্যসমূহ