‘নজর লেগেছে’ এটা কি সত্যিই ঘটে নাকি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আছে?
মানুষের কর্ম ও চেষ্টা তাকে সফলতা এনে দেয়। অপর মনুষ্যের সাহচর্যে কিংবা ভাগ্যের দয়ায় কেউ কাকতালীয় ভাবে একবার সাফল্য লাভ করতে পারে কিন্তু সে সফলতা কখনো চিরস্থায়ী হয় নাহ। সেজন্য, পরিশ্রম - চেষ্টা - সততা ব্যতীত অন্য কোনো ভিন্ন পন্থা নেই যা আপনার সফলতার জন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
তবে বহুকাল ধরে মনুষ্য সমাজে দূর্ভাগ্য, নজর কিংবা বদদোয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন কুসংস্কার স্থান করে নিয়েছে। যা সমাজকে পিছিয়ে রেখেছে এবং অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। সেজন্য, "নজর কিংবা বদদোয়া" এমন টার্ম সমূহের যৌক্তিক ব্যাখ্যা ও সত্য উন্মোচন করা আবশ্যক।
নজর লাগা বলতে মূলত, এমন একটি ধারণা যে, কেউ যদি খুব সুন্দর, সফল, বা সুখী হয়, তবে অন্য কেউ তার প্রতি ঈর্ষা বা হিংসা করতে পারে এবং তাদের সেই খারাপ দৃষ্টির ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির বা জিনিসের ক্ষতি হতে পারে।
বর্তমান আধুনিক সময়ের আবর্তে, মানবসমাজ যৌক্তিক, বৌদ্ধিক বিশ্লেষণ ব্যতীত কোনো কিছু গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়। সেজন্য, এই "নজর লাগা" বিষয়টির পিছনে কোনো প্রগাঢ় যুক্তি ও তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন ব্যতীত এমন প্রচলিত কুসংস্কারে বিশ্বাস করা মূর্খতা।
সফলতা কখনো কাকতালীয় কিংবা পরিশ্রম ব্যতীত আসে নাহ। কঠোর পরিশ্রম, সুশৃঙ্খল চেষ্টা ও অধ্যাবসায় যেকোনো সাফল্য এনে দেয়। সেজন্য বেদে বলা হয়েছে, "
য ইমে উড়ে অহনী পুর এত্যপ্রয়ুচ্ছন্" - ঋগ্বেদ ৫/৮২/৮
অর্থাৎ, যে দিন-রাত নিরন্তর পরিশ্রম করে, সে-ই অগ্রগতি লাভ করে।।
সেজন্য জীবনে সফলতা কখনো অপর ব্যক্তির হিংসা, দ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত হয় নাহ। যে দ্বেষ করে সে নিজে ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু যে অপরের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ও অনুপ্রাণিত হয় সে প্রকৃত মানুষ। নিজের জন্য যেমন কল্যাণ কামনা করা হয়, তেমনি অপরের কল্যাণ করা উচিত। ইহাই বেদের শিক্ষা।
"আ শাসতে প্রতি হর্যন্ত্যুক্থেমা হরী বহতস্তা নো অচ্ছ" - ঋগ্বেদ ১/১৬৫/৪
অর্থাৎ , যেভাবে নিজের সুখের কামনা করা হয় , সেভাবে সকলের সুখের জন্য তাদের দুঃখ দূর করা উচিৎ।
জীবনে ব্যর্থতা আসবে। সে ব্যর্থতার জন্য হতাশ না হয়ে বরং কারণ উদঘাটন করে চেষ্টা করতে হবে। ইতিহাস থেকে বর্তমান পর্যন্ত অজস্র উদাহরণ দেওয়া সম্ভব, যেখানে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সাফল্য কোনো অপর ব্যক্তির হিংসা বা দ্বেষ রুদ্ধ করতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, কর্ণ ধনুর্ধর অর্জুনকে গুরুকুল জীবন থেকে হিংসা ও দ্বেষ করতো, দুর্যোধন হিংসা করতো পঞ্চ পাণ্ডবকে কিন্তু অন্তিমদশা তাদের একই হয়েছে ধ্বংস। সেজন্য, ব্যর্থ হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয় এবং হিংসা বা দ্বেষকে বেছে নয় তাদের জন্য বেদ বলছে, "হে মানবগণ! হতাশ বা নিরাশ হয়ো না" - ঋগ্বেদ ৫/৭৫/৭।
"নজর লাগা" এসব ধারণা কুসংস্কার। অপরের সাফল্যে কেউ যদি হিংসা বা দ্বেষ পোষণ করে তবে সেই সফলব্যক্তির কোনো ক্ষতি হয় নাহ। পরন্তু, হিংসাকারী ব্যক্তির নিজের জীবনের সুখশান্তি বিনষ্ট হয়। কারণ, প্রতিহিংসার অধিকারী ব্যক্তির মানসিক শান্তি কখনো আসে নাহ। সে শুধু ধ্বংস করে। নজর যদি সত্যি হতো তবে প্রত্যেক সফল ব্যক্তির অপর প্রতিদ্বন্দ্বী এর নজরে সে ব্যর্থ হতো, কেউ সফল হতে পারতো নাহ। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত দেখেছি, আত্মাভিমান, অহংকারী ব্যক্তি তার সফলতা ধরে রাখতে পারে নাহ।
🔎Run with #veda