"বঙ্গের সার্বভৌম প্রাণপুরুষ" - মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ ও চন্দ্রদ্বীপের অজেয় হিন্দু নৌবাহিনী।


"বঙ্গের সার্বভৌম প্রাণপুরুষ" - মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ ও চন্দ্রদ্বীপের অজেয় হিন্দু নৌবাহিনী 

🪷 ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগ। আর্যাবর্তের দিগন্ত তখন মুঘল সাম্রাজ্যের রক্তিম পতাকায় আচ্ছন্ন। দিল্লির তখত-এ-তাউস থেকে নির্গত হচ্ছে এক একচ্ছত্র আধিপত্যের হুঙ্কার। একের পর এক স্বাধীন রাজ্য যখন মোঘল শাসক আকবরের মসনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলার মানচিত্রের সর্বদক্ষিণে। যেখানে গঙ্গা আর ব্রহ্মপুত্র তাদের সহস্র বাহু দিয়ে বঙ্গোপসাগরকে আলিঙ্গন করেছে—সেখানে জেগে উঠেছিল এক দুর্ভেদ্য হিন্দু শক্তি "বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ".  জলবেষ্টিত এই স্থান কোনো ক্ষুদ্র জনপদ ছিল না বরং তা ছিল সহস্র বছরের সনাতন ঐতিহ্যের শেষ রক্ষাকবচ। সেই দুর্গের কেন্দ্রে অটল মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক পুরুষসিংহ "মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ রায়।" 

​🌊 বারো ভূঁইয়াদের যে বীরত্বগাথা বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, সেই শৌর্যগাথার এক অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন "মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ"। তিনি শুধুমাত্র চন্দ্রদ্বীপের শাসক ছিলেন না, বরং ছিলেন মুঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অদম্য প্রতীক। যেখানে অনেক বৃহৎ শক্তি দিল্লীর আগ্রাসনের মুখে মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল, সেখানে মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ তাঁর সুসংগঠিত এবং অজেয় নৌবাহিনীর মাধ্যমে চন্দ্রদ্বীপকে টিকিয়ে রেখেছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য দুর্গ হিসেবে। মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ আর কৃত্তিনাশা নদীর জটিল স্রোতধারাকে তিনি তাঁর রাজ্যের রক্ষাকবচ বানিয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা আর সনাতন ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি গভীর নিষ্ঠা তাঁকে কেবল একজন শাসক হিসেবে নয়, বরং 'বঙ্গের সার্বভৌম প্রাণপুরুষ' হিসেবে ইতিহাসে এক বিশেষ মর্যাদা দান করেছে।  

🔆 চন্দ্রদ্বীপের রাজবংশ ও বীর কন্দর্পনারায়ণের উত্থান: 

​চন্দ্রদ্বীপের শাসনদণ্ড কোনো সাধারণ জমিদারি ছিল না, বরং তা ছিল এক প্রাচীন রাজকীয় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। চতুর্দশ শতাব্দীতে যখন আর্যাবর্তের রাজনৈতিক আকাশ অস্থির, তখন দনুজমর্দন দেব বাংলার দক্ষিণ উপকূলে এই স্বাধীন হিন্দু জনপদ 'বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ'-এর গোড়াপত্তন করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, এই রাজবংশ নিজেদের প্রতাপশালী দেব রাজবংশের উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করত। নদী-নালা ও সুন্দরবনের গহন অরণ্যবেষ্টিত এই ভূমি ছিল প্রাকৃতিকভাবেই দুর্ভেদ্য। দনুজমর্দন দেবের সফল উত্তরসূরী হিসেবে রামনাথ বল্লভ এবং কৃষ্ণবল্লভের হাত ধরে এই রাজ্য বিস্তৃত হয়। তবে চন্দ্রদ্বীপের রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ও বঙ্গের সার্বভৌম প্রাণপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হন বাংলার ইতিহাসের সেই ক্ষণজন্মা পুরুষ "মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ রায়"। 

​🔥 মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ রায়ের সিংহাসনে আরোহণ: 

​ষোড়শ শতাব্দীর আশির দশক প্রকৃতি ও ভূ-রাজনীতি উভয় দিক থেকেই তখন বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। এক বিধ্বংসী সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে যখন দক্ষিণ বঙ্গের জনপদ লণ্ডভণ্ড, ঠিক তখনই চন্দ্রদ্বীপের রাজমুকুট মস্তকে ধারণ করেন তরুণ কিন্তু দূরদর্শী মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ। সিংহাসনে আরোহন করে তিনি এক চরম বাস্তবতার সম্মুখীন হন। একদিকে মগ(আরাকান) ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের অতর্কিত হামলা, অন্যদিকে দিল্লির মুঘল সম্রাট আকবরের সর্বগ্রাসী লোলুপ দৃষ্টি। এমন এক প্রতিকূল সময়ে, রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রজার রক্ষার্থে তিনি রাজ্যের রাজধানী 'কচুয়া' থেকে সরিয়ে আরও নিরাপদ স্থানে স্থনান্তরের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রজাদের মনে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্রতী হন। 

​🛡 বারো ভূঁইয়ার ঐক্যে এক নতুন শক্তির উদয়: 

মহারাজা ​কন্দর্পনারায়ণের সিংহাসনে আরোহণ শুধুমাত্র একটি রাজ্যের শাসকবদল ছিল না, বরং তা ছিল মোঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক অজেয় প্রাচীর গড়ে তোলার সূচনা। বাংলা সর্বদাই স্বাধীন চেতা, ভূ-প্রকৃতি থেকে মানুষ কেউ বশে আসতে প্রস্তুত নয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, দিল্লির বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে একক প্রতিরোধ অসম্ভব। এই দূরদর্শী চিন্তা থেকে সৃষ্টি হয় অজেয় মোঘল সৈনবাহিনীর বিরুদ্ধে কৌশলগত জোট তথা মোগলদের ত্রাস 'বারো ভূঁইয়া'। 

ঈশা খাঁ, কেদার রায়, লক্ষ্মণমানিক্য ও প্রতাপাদিত্যের মতো স্বাধীনচেতা বীরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে 'বারো ভূঁইয়া' জোটের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হন। নিজ সামরিক মেধা ও দূরদর্শী কূটনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চন্দ্রদ্বীপ বাংলার এক অপরাজেয় নৌ-শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ভৌগলিক অবস্থানের গুরুত্ব উপলব্ধি করে, তিনি দুর্ধর্ষ নৌ বাহিনী প্রস্তুত করে। আমরা নৌ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব শাসনের দাক্ষিণাত্যের চোল রাজাদের ইতিহাস অধ্যয়ন করেছি কিন্তু প্রাচীন বাংলার এই অজেয় নৌ বাহিনীর ইতিহাস বিস্মৃত। মহারাজ কন্দর্পনারায়ণের শুধুমাত্র একজন রাজা ছিলেন না, বরং হয়ে উঠেছিলেন দক্ষিণ বাংলার সনাতন ঐতিহ্যের শেষ প্রহরী।

​⚔️ চন্দ্রদ্বীপের ​অজেয় নৌবাহিনী ও মোঘলদের সাথে সংঘাতের রণকৌশল: 

মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ উপলব্ধি করেছিলেন, দিল্লির বিশাল অশ্বারোহী এবং পদাতিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সমতলে যুদ্ধ করা আত্মঘাতী। তাই তিনি বাংলার নদীমাতৃক ভৌগোলিক অবস্থানকে পরম মিত্রে পরিণত করেন। তিনি মেঘনা ও আড়িয়াল খাঁর মোহনায় গড়ে তোলেন এক শক্তিশালী নৌ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাঁর নৌবহরে ছিল শত শত দ্রুতগামী 'কোষা', 'ছিপ' এবং কামানে সজ্জিত বিশালাকার 'রণতরী'। এই তরীগুলো জোয়ার-ভাটার গতি প্রকৃতি বুঝে এমনভাবে মোতায়েন করা হতো যে, মুঘলদের ভারী জাহাজগুলো বাংলার সরু ও গোলকধাঁধার মতো নদীপথে এসে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ত। তাঁর নৌবাহিনীতে কেবল যোদ্ধারাই ছিল না, ছিল দক্ষ গোলন্দাজ বাহিনী, যারা দূর থেকেই শত্রুপক্ষকে তছনছ করে দিতে পারত।

▪️​মুঘল আগ্রাসন ও কন্দর্পনারায়ণের কূটনীতি: 

মোঘল ​সম্রাট আকবরের সেনাপতিরা যখন একের পর এক রাজ্য জয় করে বাংলার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন কন্দর্পনারায়ণ শুধুমাত্র তলোয়ার দিয়ে নয়, বুদ্ধিমত্তা দিয়েও তাঁদের মোকাবিলা করেন। ১৫৮০ এর দশকের শেষভাগে মোঘল সেনাপতি শাহবাজ খাঁ এবং মানসিংহের তীব্র চাপের মুখেও তিনি মাথা নত করেননি। যখন ভাটি অঞ্চলে ঈশা খাঁ মুঘলদের ব্যতিব্যস্ত রাখছিলেন, তখন দক্ষিণ দিক থেকে কন্দর্পনারায়ণ এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জানতেন, মোঘল সৈনাবাহিনী স্থলযুদ্ধে পারদর্শী হলেও জলযুদ্ধে দুর্বল। সেজন্য তিনি মোগলদের খোলা ময়দান থেকে টেনে এনে নদীর বাঁকে ও কর্দমাক্ত চরে ফাঁদে ফেলতেন। এই সুনিপুণ রণকৌশলের কারণে মুঘলদের বার বার পিছু হটতে বাধ্য করেছিল।

▪️​পর্তুগিজ ও মগ দস্যুদের বিনাশ:  

মহারাজা ​কন্দর্পনারায়ণের নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব কেবল মুঘলদের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেই সময় বাংলার উপকূলীয় জনপদে বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পর্তুগিজ হার্মাদ ও আরাকানি মগ জলদস্যুরা। তারা সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে দাস হিসেবে বিক্রি করত। মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ তাঁর নৌবহর নিয়ে এই জলদস্যুদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেন। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ফলে চন্দ্রদ্বীপের প্রজারা শুধুমাত্র সুরক্ষিতই হয়নি, বরং তিনি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের কাছে এক দেবতুল্য ত্রাতা। তাঁর শাসনের অধীনে বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ হয়ে উঠেছিল এক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ সার্বভৌম ভূখণ্ড, যেখানে মোঘল বিজয়তরণী ও জলদস্যুদের প্রলয়ও থেমে যেতে বাধ্য হয়েছিল। 

⌛ বীরের প্রস্থান ও এক করুণ ট্র্যাজেডির সূচনা: 

​ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলার আকাশে যখন মোঘল সূর্য মধ্যগগনে, তখন দুই প্রবল পরাক্রান্ত হিন্দু শক্তি "যশোরের প্রতাপাদিত্য এবং চন্দ্রদ্বীপের কন্দর্পনারায়ণ" এক অটুট মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ হন। দূরদর্শী দুই শাসক এই রাজনৈতিক মিত্রতাকে পারিবারিক সম্পর্কে রূপ দিতে কন্দর্পনারায়ণের শিশুপুত্র রামচন্দ্র রায়ের সাথে প্রতাপাদিত্যের কন্যা বিমলার বিবাহ স্থির হয়। যা শুধুমাত্র একটি বিবাহ ছিল না, ছিল দক্ষিণবঙ্গের দুই প্রধান শক্তির একীভূত হওয়া ও "Matrimonial Diplomacy' উৎকৃষ্ঠ উদাহরণ। তবে এই অপরাজেয় সূর্যকেও থেমে যেতে হয়েছিলো মৃত্যুর সিংহনাদের কাছে।১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বাংলার এই অজেয় পুরুষসিংহ মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ পরলোকগমন করেন, এবং এক বিশাল শূন্যতা রেখে যান চন্দ্রদ্বীপের সিংহাসনে।

পিতার মৃত্যুর পর নাবালক রামচন্দ্র রায় সিংহাসনে বসেন। প্রতাপাদিত্য চেয়েছিলেন এই সুযোগে চন্দ্রদ্বীপকে নিজের প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসতে। বিবাহের পর এক ভোজসভায় যখন রামচন্দ্র রায় যশোরে যান, তখন অহংবোধ আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দুই রাজপরিবারের মধ্যে চরম তিক্ততা তৈরি হয়। লোকগাথা ও ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, প্রতাপাদিত্য তাঁর জামাতা রামচন্দ্রকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে রামচন্দ্র সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই ঘটনা বারো ভূঁইয়াদের ঐক্যে এক বিশাল ফাটল ধরায়, যা পরোক্ষভাবে মুঘলদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিল। যে ঐক্যবদ্ধতা বাংলাকে দিয়েছিল অপ্রতিরোধ্য শক্তি, সে ঐক্যবদ্ধতা বিনষ্ট হওয়ায় তা এনেছিল ধ্বংস। 

🪔 সার্বভৌমত্বের শেষ শিখা ও ঐতিহ্যের অবসান: 

মহারাজ ​কন্দর্পনারায়ণের মৃত্যুর পর তাঁর সুসংগঠিত নৌবাহিনী এবং প্রশাসনিক কাঠামো ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। মহারাজা রামচন্দ্র রায়  মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, কিন্তু সেই সিংহপুরুষ এর মতো সংহতি, অজেয় চন্দ্রদ্বীপকে   ফেরাতে পারেননি। ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ যখন চূড়ান্ত অভিযানে নামেন, তখন একে একে বাংলার স্বাধীন রাজ্যগুলোর পতন ঘটে। মহারাজ কন্দর্পনারায়ণ যে সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা সময়ের নিষ্ঠুর আবর্তে বিলীন হয়ে যায়। 

এই অমরগাঁথা বর্তমান বরিশালের লৌকিক ইতিহাসে এবং 'বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের' প্রতিটি ধূলিকণায় তাঁর নাম আজও অমর হয়ে আছে। তিনি ছিলেন সেই শাসক, যিনি শিখিয়েছিলেন প্রবল শত্রুর মুখেও মাথা নত না করে নিজের কৃষ্টি ও মাটিকে কীভাবে রক্ষা করতে হয়।

✨মহারাজ কন্দর্পনারায়ণের মহাপ্রয়াণ শুধুমাত্র  একটি সাম্রাজ্যের সূর্যাস্ত ছিল না, বরং তা ছিল বাংলার অজেয় হিন্দু সার্বভৌমত্বের এক মহীরুহের পতন। ১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এই সিংহপুরুষের অন্তিম বিদায়ের পর অভ্যন্তরীণ বিবাদ আর মুঘল সুবাদার ইসলাম খাঁর কৌশলী আক্রমণে একসময়ের অপরাজেয় 'বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ' তার রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বতন্ত্র মানচিত্র হারায়। কিন্তু ইতিহাসের ধুলোবালি কি সেই শৌর্যকে মুছে দিতে পেরেছে? আজ কয়েকশ বছর পরও যখন মেঘনার ঢেউ আছড়ে পড়ে, তখন যেন সেই অপরাজেয় নৌবাহিনীর হুঙ্কার শোনা যায়। মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ আমাদের ধমনীতে সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, যা প্রমাণ করে এই মাটি কোনোদিন কাপুরুষের ছিল না। বাঙালির জন্য তিনি এক অবিনশ্বর দর্পণ; যেখানে তাকালে আজও মেরুদণ্ড সোজা হয়ে যায়। যে হাতে আমরা চন্দন ঘষি, সেই হাতই প্রয়োজনে মাতৃভূমির রক্ষার্থে শত্রুর রক্তে তলোয়ার ধুইয়ে দিতে জানে এই চরম সত্যটিই কন্দর্পনারায়ণ ইতিহাসের পাতায় রক্তাক্ষরে লিখে গেছেন, যা আজও আমাদের রক্তে শিহরণ জাগায়। 

- Run With Veda 

#veda #Hinduempire #bengalihindu

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ