"জ্ঞানেই মুক্তি, জ্ঞানেই সফলতা"

"জ্ঞানেই মুক্তি, জ্ঞানেই সফলতা"

নমস্কার সকল অমৃতের সন্তানগণ! জগৎ তার আপন ধারায় অগ্রসরমান। নদীর প্রবহমান জল যেমন তার পূর্ববর্তী স্থানে ফিরে আসে না, তেমনি প্রবহমান সময় একবার অতিবাহিত হলে তা আর ফিরে আসে না। সনাতন বৈদিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সেই সময়ের পরিক্রমায় প্রাচীন ঋষি ও অমৃতের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্বীয় প্রজ্ঞা ও কর্ম দ্বারা। কারণ, তাদের চেতনা গড়ে উঠেছিল জ্ঞানকে কেন্দ্র করে। জ্ঞানই একজন মনুষ্যকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তোলে। সেজন্য, শ্রীমদ্ভগবদগীতায় যোগেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,  

" ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে।  - শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৪/৩৮

অর্থাৎ, এই জগতে জ্ঞানের সমান পবিত্রকারী নিঃসন্দেহে কিছুই নেই।

পৃথিবীর ইতিহাস বহু সভ্যতা বহু অত্যাশ্চর্য নির্মাণ কিংবা কৃতিত্বের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। কিন্তু সেই সকল সভ্যতা আজ ধূলিকণার সাথে সুদূর অতীতের কোণে ঠাঁই নিয়েছে। কিন্তু কিছু জাতি,সভ্যতা, আদর্শ আজও তাদের জ্ঞানের জ্যোতি দ্বারা জগৎকে দিশা দেখিয়ে চলেছে। যা মূখ্যত জ্ঞানের বিকাশ ও তার গুরুত্বকে প্রায়োগিক প্রমাণ করে। 

আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা আর্য বহুবিধ পরিচয়ে আমরা জগৎ-সংসারে পরিচিত। তবে বিশ্বসভ্যতা এই সংস্কৃতি সভ্যতার মনুষ্যদের জেনেছে তাদের জ্ঞান জৌতির কারণে। এই ভূমি জগৎকে দিয়েছে সুবিখ্যাত গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ, আধ্যাত্মিকতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর্যভট্ট, বরাহমিহির, কণাদ, ভাস্করাচার্য, ব্রহ্মগুপ্ত, চাণক্য, সুশ্রুত, চরকসহ অগণিত অমৃতের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। তারা প্রত্যেকে তাদের জ্ঞানকে ভিত্তি করে জগৎ এই ভূমিকে আর্যাবর্ত হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। 

এই ক্ষুদ্র বিশ্লেষণ এর উদ্দেশ্য শুধু এই নয় যে ভূমিপুত্রদের তাদের গৌরবজনক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেওয়া, বরং সময়ের স্রোতে নদীর প্রবহমানতায় চলে যাওয়া সেই স্বর্ণালি দিনকে ফিরিয়ে আনার অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত করার জন্য। বর্তমান সময়ে সনাতনীদের মধ্যে পূর্বের তুলনায় জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ তরান্বিত হয়েছে। কিন্তু সেই চেতনা বোধ তখনি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে যখন সকল সনাতনী শুধু স্লোগান কিংবা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেগকে পুঁজি করে নয় বরং সেই চেতনার সাথে নিজ ধর্মের মূল জ্ঞান তথা বৈদিক শাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে চেতনা দীপ্ত এক প্রদীপ শিখা হয়ে উঠবে।

তৈল বিহীন প্রদীপ যেমন আলোকজ্যোতি ছড়িয়ে দিতে পারে না, তেমনি জ্ঞান বিহীন জাতীয়তাবাদ তমসার অন্ধকারে ডুবন্ত সভ্যতাকে উত্তরণের পথ দেখাতে পারে না। 

তাই হে অমৃতের সন্তানগণ! বৈদিক শাস্ত্রসমূহ অধ্যয়ন করি। ঋষিদের প্রণীত নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলি। নিজেদের সেই প্রদীও শিখার মতো তেজোদীপ্ত করে স্বর্ণ সভ্যতার পুনঃ জাগরনের গান গাই সম্মিলিত কন্ঠে।

প্রচারে:- VEDA 

#veda

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন