ব্রহ্মজ্ঞান লাভের যোগ্য কে?
জ্ঞান পরম পবিত্র ও শ্রদ্ধায় আদৃত। জ্ঞান মনুষ্যকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসে। সেজন্য, ধর্মশাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন রয়েছে স্পষ্টত গুরুত্ব। তবে সে জ্ঞান যদি হয় ব্রহ্মজ্ঞান, তাহলে সে জ্ঞান অর্জনের জন্য যোগ্য হওয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপাত্রে জ্ঞান দান নিরর্থক ও ফলদায়ক নয়।
এজন্যই, প্রশ্নোপনিষদে ব্রহ্মর্ষি পিপ্পলাদ ছয়জন ঋষিপুত্রকে ব্রহ্মজ্ঞান প্রদানের পূর্বে তাহাদের যোগ্যতা পরিক্ষা করেছিলেন। যখন তারা যোগ্যতা প্রমাণ করলো তারপরই ঋষি তাহাদের ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেছিলেন। সেজন্য, শান্ত, সুশীল ও শ্রদ্ধাবান ব্যক্তিই ব্রহ্মজ্ঞান লাভের যোগ্য।
শ্রীমদ্ভগবদগীতায় যোগেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এরুপ অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন যে,
"শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংয়তেন্দ্রিয়ঃ। জ্ঞানং লব্ধা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।।"
- গীতা ৪/৩৯
অর্থাৎ, "যিনি শ্রদ্ধাবান, একনিষ্ঠ সাধন-তৎপর এবং জিতেন্দ্রিয়, তিনিই জ্ঞান লাভ করেন। জ্ঞান লাভ করার পর তিনি শীঘ্রই পরম শান্তি লাভ করেন" ॥
গূঢ় ব্রহ্মবিদ্যা সর্বসাধারণের জন্য অতি দূলর্ভ। ব্রহ্মতত্ত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পাত্র অপাত্র বিচার সম্পর্কে বলা হয়েছে-যার অন্তঃকরণে কাম, ক্রোম, লোভ, মোহাদি নিবৃত্তি দ্বারা বৈরাগ্যজাব আসেনি অর্থাৎ বিষয় বাসনার নদীতে প্রবাহিত হওয়ার কারণে যার চিত্ত এখনো শান্ত হয়নি, তাকে কখনো ব্রহ্মবিদ্যার উপদেশ দেওয়া উচিত নয়।
শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ বলা হয়েছে
"
বেদান্তে পরমং গুহ্যং পুরাকল্পে প্রচোদিতম্।
শান্তার দাতব্যং নাপুত্রায়াশয্যায় বা পুনঃ"
- শ্বেতাঃ ৬/২২
অর্থাৎ, পুরাকালে উপরোক্ত পরম গূঢ় ব্রহ্মজ্ঞান বেদান্ত শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে। অশান্তচিত্তের ব্যক্তিকে, অযোগ্য পুত্রকে, অযোগ্য শিষ্যকে এই ব্রহ্মবিদ্যার উপদেশ দান করা উচিত নয়।
✏️Run with Veda