বিয়ে কি আবেগ এর বশে হওয়া উচিত নাকি বিবেচনা করে?


বিয়ে কি আবেগ এর বশে হওয়া উচিত নাকি বিবেচনা করে?

বিবাহ মনুষ্য জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তম সংস্কার। মনুষ্য তাহার জীবনকে আরো পরিপূর্ণতা দান ও মানবসভ্যতার অগ্রগতি স্বরুপ এই বিবাহ সংস্কার হয়ে থাকে। একজন সঙ্গী চয়নে আমাদের সকলের সচেতন ও বিচারকারী হতে হবে। নচেৎ আধ্যাত্মিক ও প্রায়োগিক জীবনে সর্বদা জীবনে পশ্চাদপসরণ নিশ্চিত। 

বর্তমান কিছু ব্যক্তিদ্বয় এরুপ আরোপ করে থাকে বিয়ে আবেগ এর বশে হওয়া উচিত। কিন্তু সত্যি বিয়ে কি আবেগ এর বশে হওয়া উচিত নাকি বিচার-বিবেচনা পূর্বক হওয়া উত্তম?

এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ আলাদা এবং তাহার বিচার বিবেচনা ভিন্ন। কিন্তু জীবনে কোনো এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অনুচিত যা আপনাকে সারাজীবন ধরে অনুশোচনা দিতে থাকে। সেজন্য, বিবাহ সংস্কার কিংবা জীবন সঙ্গী চয়নে কখনো আবেগ নয় বিচারবিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ উচিত। কারণ সনাতন ধর্মে বিবাহ কোনো চুক্তি নয় যে, আপনি আবেগ এর বশে বিবাহ করলেন কিন্তু পরবর্তীতে অনুশোচনা হওয়ায় বিচ্ছেদ করলেন। সনাতন ধর্মে বিবাহ সঙ্গীর সঙ্গে আত্মিক মিলন, যা আপনাকে জীবন ও লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়ক। সেজন্য শাস্ত্রে বলা হয়েছে, 

“ব্রহ্মচর্যেণ কন্যা যুবানং বিন্দতে পতিম। অনডৃবান্ ব্রহ্মচর্যেনাশ্বো ঘাসং জিগীর্ষতি॥” 

- অথর্ববেদ ১১/৫/ ১৮

অর্থাৎ, ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করার পর কুমারী কন্যা যুবা পতিকে লাভ করবে। বলবান্ ও বুদ্ধিমান্ ব্যক্তিই ভোগ্য পদার্থকে সম্যক ভোগ করতে পারে। 

উপরোক্ত মন্ত্রে একজন নারী ব্রহ্মচর্য পালন করিবার পর বলবান ও বুদ্ধিমান হিসেবে উত্তম পতিকে গ্রহণ করা উত্তম। 

“য়ুবা সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎ স উ শ্রেয়ান ভবতি জায়মানঃ। তং ধীরাসঃ কবয় উন্নয়ন্তি স্বাধ্যো মনসা দেবয়ন্তঃ॥” - ঋগ্বেদ ৩/৮/৪

অর্থাৎ, যে পুরুষ সর্বতােভাবে যজ্ঞােপবীত ধারণ ও ব্রহ্মচর্য সেবন দ্বারা বিদ্বান্ এবং সুশিক্ষিত হয়ে, সুন্দর বস্ত্র পরিধানপূর্বক, ব্রহ্মচর্যযুক্ত পূর্ণ যৌবন প্রাপ্ত হয়ে, বিদ্যাগ্রহণ করে গৃহাশ্রমে প্রবেশ করেন, তিনিই দ্বিতীয় বিদ্যাজন্মে প্রসিদ্ধি লাভ করে অতিশয় শােভাযুক্ত ও মঙ্গলকারী হন। উত্তম ধ্যানযুক্ত বিজ্ঞান দ্বারা বিদ্বানেরা সেই পুরুষকে উন্নতিশীল করে প্রতিষ্ঠিত করেন। আর যে স্ত্রী পুরুষ ব্রহ্মচর্য ধারণ, বিদ্যা এবং সুশিক্ষা গ্রহণ না করে বাল্যাবস্থায় বিবাহ করে তারা নষ্ট ও ভ্রষ্ট হয়ে বিদ্বান্ ব্যাক্তিদের মধ্যে সম্মান লাভ করে না।

এই মন্ত্রে স্পষ্টত স্বামী স্ত্রী হিসেবে সুশিক্ষা, বিদ্যা অর্জন না করে বাল্য অবস্থায় বিবাহ সংস্কার করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 

সেজন্য, যে সকল ভ্রাতা-ভগিনী আবেগ এর বশে বাল্য অবস্থায় বিবাহকে জাস্টিফাই করতে উদ্যত তাদের পুনরায় বিবেচনা করা উচিত। 

সনাতন ধর্ম শাস্ত্রে বিবেচনাপূর্বক সন্তানকে বিবাহের এরুপ বিধান পর্যন্ত বিদ্যমান যে, অযোগ্য স্বামীর নিকট কন্যা বিবাহ দেওয়ার থেকে কন্যা অবিবাহিত থাকা উত্তম। 

"কামমামরণাত্তিষ্ঠেদ্ গৃহে কর্ন্যতুমত্যপি।
ন চৈবৈনাং প্রযচ্ছেত্তু গুণহীনায় কর্হিচিৎ।।"
- মনুসংহিতা ৮/৮৯

অর্থাৎ, কন্যা ঋতুমতি হয়ে মৃত্যুকাল পর্যন্ত পিতৃগৃহেই অবস্থান করবে সেও বরং ভালো,তবু গুণহীন বরের (অর্থাৎ  বিদ্যা, শৌর্যাধিক্য,সুন্দর চেহারা, উপযুক্ত বয়স, মহত্ত্ব, লোকনিষিদ্ধ ও শাস্ত্রনিষিদ্ধ দ্রব্যাদি বর্জন এবং কন্যার প্রতি অনুরাগ - এই গুলি নেই যে পাত্রের) হাতে কন্যা দান করবে না।

তাই হে অমৃতের সন্তানগণ। জীবনসঙ্গী চয়নে কখনো আবেগ এর বশবর্তী হওয়া উচিত নয়। বরং যে ধার্মিক, বুদ্ধিমান, জ্ঞানী এমন যোগ্য ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে সুখী সমৃদ্ধ জীবন লাভ করি।
✏️Run With Veda
#veda

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন