"ঢাপঢুপ গণহত্যা"
স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ নয়, এ এক চেতনা যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আত্মত্যাগ এর ইতিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সে আত্মত্যাগ এর বিস্মৃত এক নাম ঢাপঢুপ গণহত্যা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাঙালি হিন্দুদের উপর নেমে ঘোর অমানিশা। ফলস্বরূপ, সে হত্যা, ধর্ষণ ও জীবন রক্ষায় সংখ্যালঘু হিন্দুরা ভারতে পলায়নের জন্য পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ঢাপঢুপ বিলের পাড়ের আম বাগানে এসে সমবেত হয়েছিলো। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকারেরা সকালে সূর্য ওঠার পর যারা রওনা হয়েছিল তাদের পিছু ধাওয়া করে পথ রোধ করে এবং যারা আম বাগানে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরসহ নির্জন ঢাপঢুপ বিল পাড়ে জড়ো করে। এরপর লাইন করে দাঁড় করিয়ে পিছন দিক থেকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয় এবং যারা বেঁচে যান তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। একে একে তাদের লাশ ঢাপঢুপ বিলে ফেলে লাশের ওপর সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয়। পুরুষদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল। ঢাপঢুপ বিল থেকে পাঁচশো গজ দক্ষিণে শুখানপুখুরি গ্রাম। যা বর্তমানে বিধবা পল্লী বা বিধবা গ্রাম হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের এই হত্যাকাণ্ডে ৩৫০০ জন বাঙ্গালী হিন্দুকে ব্রাশফায়ার ও কুপিয়ে করে হত্যা করা হয়।
বিঃদ্রঃ উপরিউক্ত আর্টিকেল এর উদ্দেশ্য কোনো বিভেদ বা জাতিগত বিদ্বেষের প্রচার নয়। বরং বহুদিন ধরে প্রচলিত প্রোপাগাণ্ডার প্রত্যুত্তর। আমরা ইতিহাস থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে পারি, মহান মুক্তিযুদ্ধ সকল বাঙালি-অবাঙালি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শোষিত মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ছিল।
পাকিস্তানি বাহিনী ও হিন্দু নিধন - ০১